Thursday, August 29, 2013

ধ্যান চাঁদ কিংবা রক্তাল্পতা হকি এখনও সেই তিমিরেই

ধ্যান চাঁদ কিংবা রক্তাল্পতা হকি এখনও সেই তিমিরেই





মজার ব্যাপার, ভারতে আমজনতার কথা বাদই দিন, এমনকী খেলার জগতেও অনেকে জানেন না, ধ্যান চাঁদকে জীবনের একেবারে গোড়ায় কী নিদারুণ অর্থকষ্টের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়েছিল৷ সবাই পরপর তিনটে অলিম্পিক সোনার কথা জানেন৷ এও জানেন, ধ্যান চাঁদই এখনও পর্যন্ত ভারতের সর্বোত্তম হকি-প্রতিভা৷ কিন্ত্ত সেই অবিশ্বাস্য অবদান সত্ত্বেও তিনি যে যোগ্য সাম্মানিকটুকু পাননি, সে খবরও জনতার অজানা৷ 



ধ্যান চাঁদের স্টিকের জাদু প্রথম সম্মোহন ছড়ায় ১৯২৬-এ, নিউজিল্যান্ড সফরে৷ ছিলেন সেনাবাহিনীর সামান্য সিপাই, পরে যাঁরা তাঁর সতীর্থ হবেন, তাঁদের অনেকেই মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছিলেন, ধ্যান চাঁদ জন্মাননি, এ হেন এক ব্যক্তির কাছে ভারতীয় দলে ডাক পাওয়া সহসা হাতে চাঁদ পাওয়ারই তুল্য৷ আত্মজীবনীতে প্রাঞ্জল, মজাদার একটি বর্ণনা দিয়েছেন ধ্যান চাঁদ: 'সফরের প্রস্ত্ততি নিলাম দ্রুত৷ সিপাইয়ের মাইনে আর কতই বা, মাসে কয়েকটি টাকা মাত্র, বাবা-মা-ও সচ্ছল ছিলেন না, ফলে যথাযথ সাজসরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার চিন্তা অর্থাভাবে ত্যাগ করতে হল দ্রুত৷ কমখরচে খেলার যতটা সাজপোশাক পারলাম, নিলাম৷ নিজের ব্যক্তিগত জামাকাপড় বলতে থাকল সেনার পোশাক৷ সেনাবাহিনীতে কাজ করে, বিশেষ করে নিচু তলার পদে, এই সফরের আগে আমরা ভাবতেই পারতাম না আমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে, বাড়িতে লোকজন আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, নানা অনুষ্ঠানে বিপুল সাধুবাদ কুড়োচ্ছি আমরা৷ আমরা নায়ক হয়ে গেলাম, আর সবিনয়ে অন্তত এটুকু বলতে পারি, দারুণ ভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছিলাম, দাগ কাটতে পেরেছিলাম বিশ্বমঞ্চে৷' 



আমস্টার্ডাম-এ, ১৯২৮-এর অলিম্পিকে হকিতে প্রথম যোগ দেয় ভারত৷ তখনও পর্যন্ত পদক-টদক ইত্যাদির বিশেষ আশা ছিল না৷ রাঁচিতে প্রথম শ্রেণি প্রাপ্ত এবং পরে অক্সফোর্ড, ব্যালিয়ল কলেজের ছাত্র জয়পাল সিং পেলেন অধিনায়কের মুকুট৷ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বম্বে থেকে জাহাজে ভাসলেন তেরোজন খেলোয়াড়, তাদের মধ্যে ন'জন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান৷ তবে, যাত্রারম্ভের আগে একটা ছোট্ট সংকট ছিল৷ জানা গেল, তেরোজনের মধ্যে এগারো জন যাবেন কিন্ত্ত অর্থসংকটের জন্য দু'জনের যাওয়া অনিশ্চিত৷ তদানীন্তন নথি জানাচ্ছে, কম পড়েছিল পনেরো হাজার টাকা৷ সংকটের ছবিটা আরও স্পষ্ট হয় এই কারণে যে, ফেডারেশন-এর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার শওকত আলি এবং সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস-এর আর এ নরিস দলের সঙ্গে যেতে না-ও পারেন৷ শেষটায় অবশ্য বাংলার ক্রীড়ামোদী জনতা এগিয়ে এলেন, রীতিমতো চাঁদা করে টাকা তোলা হল, ফলে ওই দু'জনের অলিম্পিক যাত্রা আর আটকাল না৷ 



৩০ মার্চ ১৯২৮- টিলবেরির জাহাজঘাটায় জয়পাল তাঁর দলকে দেখলেন৷ ততদিনে বেশ ক'বছর বিলেতবাসের অভিজ্ঞতাত তাঁর ঝুলিতে, ফলে যাঁরা ভারত থেকে হাজির হলেন তাঁদের 'নোংরা পোশাক এবং গ্রাম্য আচরণ'-এ জয়পাল মোটেই প্রসন্ন হলেন না৷ সাউথ কেনসিংটন-এ উঠল দল, জয়পাল তাঁদের বেশ কয়েক বার রিজেন্ট স্ট্রিট-এ বীরাস্বামীর সুখ্যাত রেস্তোরাঁয় ভোজও খাওয়ালেন৷ পরে লিখছেনও তিনি, 'খাওয়াতে গিয়ে গাঁটের কড়ি খরচ হয়েছিল ভালই৷ খাবারটা হায়দরাবাদি ছিল বটে, কিন্ত্ত সস্তা নয় মোটেই৷' 



এ দিকে, বিলেতে পা দিয়েই জয়পালকে খেলোয়াড়েরা 'স্কিপার' বলে ডাকতে শুরু করেছেন, যদিও তখনও পর্যন্ত কিন্ত্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে অধিনায়কের দায়িত্বভার তিনি গ্রহণ করেননি৷ অনুশীলনের গোড়ার দিকেই অবশ্য শওকত আলি এবং ধ্যান চাঁদ তাঁর নজর কাড়লেন৷ জয়পাল লিখছেন, ধ্যান চাঁদ 'বেশ সাদাসিধে, বিনীত৷ একটাই প্যান্ট ছিল ওর৷ দেখেটেখে আমি ওকে রিজেন্ট স্ট্রিট-এর অস্টিন রিড-এ নিয়ে গেলাম৷ সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতেই দোকানজুড়ে অজস্র ট্রাউজার৷ ধ্যান চাঁদ আমাকে খুব বিনীত ভাবে জিজ্ঞেস করল, আমি এগুলোকে ওপরে রোদ্দুরে নিয়ে গিয়ে দেখব?' এর পর আর কী বলব? পরে শওকতকে গল্পটা বললাম৷ ও হেসে বলল, আচ্ছা, একটা ল্যান্স নায়েকের থেকে এর বেশি কী আশা করেন বলুন তো?' 



সেই ল্যান্সনায়েক অবশ্য আশাতিরিক্ত দক্ষতা দেখিয়েছিলেন খেলায়৷ সে বার আমস্টারডামে ভারতের ঊনত্রিশটি গোলের মধ্যে চোদ্দটি তিনিই করেছিলেন৷ ভারতের স্বর্ণপদক জয়ের মূল কারিগর তিনিই এবং পরের আরও দু'টি অলিম্পিকেও সেই সোনার ফর্ম-ই বজায় রেখেছিলেন তিনি৷ সেই স্মৃতি এখনও অম্লান৷ ২০১২ অলিম্পিকের সময় লন্ডনে একটি টিউব স্টেশনের নামকরণ করা হয়েছিল ধ্যান চাঁদেরই নামে৷ বিদেশ তাঁকে মনে রাখলেও স্বদেশ কতটা মনে রেখেছে সে প্রশ্ন আজ উঠতে বাধ্য৷ 



যদিও তাঁর জন্মদিনটি এ দেশে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে পালন করা হয় কিন্ত্ত প্রয়াণের প্রায় সাড়ে তিন দশক পরে ধ্যান চাঁদকে এখন ভারতরত্ন দিয়ে যদি ভাবি, তাঁর প্রতি যোগ্য সম্মানটি জানানো হল, তা নিছক ভ্রান্তিবিলাস ছাড়া কিছু নয়৷ যদি রানি রামপালদের মতো নবীন প্রতিভাদের বিকাশের জন্য উপযুক্ত বন্দোবস্ত করা হয়, তাঁদের আর্থিক সংকটের সমাধান করা হয়, সেটাই ধ্যান চাঁদকে স্মরণ করার যোগ্যতম পন্থা হয়ে উঠবে৷ 

এই রচনার সঙ্গে ব্যবহূত ছবিগুলি বোরিয়া মজুমদারের সৌজন্যে প্রাপ্ত

বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নির ওপর কর ছাড়ের প্রস্তাব বণিকসভাগুলির

বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নির ওপর কর ছাড়ের প্রস্তাব বণিকসভাগুলির

বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নির ওপর কর ছাড়ের প্রস্তাব বণিকসভাগুলির
নয়াদিল্লি: টাকার দর ধরে রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা করা উচিত্‍ সরকারের৷ এ জন্য বন্ড ইস্যু করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক বিদেশি বিনিয়োগ (এফআইআই) ধরে রাখতে শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেনের ক্ষেত্রেও তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করে বণিকসভা কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ৷ ইনফোসিসের ভাইস চেয়ারম্যান ও সিআইআই প্রেসিডেন্ট ক্রিস গোপালকৃষ্ণন এ দিন বলেন, 'যথেষ্ট পরিমাণে রাষ্ট্রীয় বন্ড (সোভরেন গ্যারান্টিড বন্ড) ইস্যু করার ব্যাপারে ভাবা উচিত্‍৷ এফআইআইগুলির ক্ষেত্রে শর্ট টার্মে ক্যাপিটাল গেন ট্যাক্স রদ করা যায় কি না তা বিবেচনা করে দেখা দরকার৷' সিআইআই মনে করে, সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যখন চেষ্টা করছেই তখন অস্থিরতা কাটাতে এমন পদক্ষেপ করা যেতেই পারে৷

পিএইচডি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সুমন জ্যোতি খৈতানও মনে করেন, আশু পদক্ষেপ হিসাবে এই বন্ড ছাড়া যেতে পারে৷ বণিকসভাগুলি মনে করে, এফআইআইগুলির আস্থা ফেরাতে সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে৷ এ জন্য বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হবে, তাই বিপুল পরিমাণে রপ্তানির জন্য ব্যাপক হারে উত্‍পাদন করতে হবে৷ একই সঙ্গে তারা মনে করে, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা থেকে সরকারের বিরত থাকা উচিত্‍৷ প্রসঙ্গত, লোকসভায় খাদ্যসুরক্ষা বিল পাশ হওয়ায় সরকারের উপর যে বিপুল আর্থিক চাপ আসবে তার ফলে আর্থিক ঘাটতি ৪.৮ শতাংশে বেঁধে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছে বিনিয়োগকারীরা৷ এর ফলেই এক দিনে ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে সেনসেক্স৷ তা ছাড়া টাকার পতনও কোনও ভাবে আটকানো যাচ্ছে না৷

খৈতান বলেন, 'মূলধনী ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে৷ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি ক্ষেত্রকেও চাঙ্গা করতে হবে৷' গোপালকৃষ্ণনের কথায়, 'রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট গড়ে খুচরো বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ টানা যেতে পারে৷ পাশাপাশি এটাও দেখতে হবে যে সরকারি ভাবে কোনও দিক থেকেই যাতে এমন কিছু ঘোষণা করা না হয় যা বাণিজ্যবান্ধব নয়৷'

বণিকসভা অ্যাসোচ্যাম মনে করে, মার্কিন ফেডেরাল রিজার্ভের ঘোষণার জন্য টাকার উপরে যে প্রভাব পড়ছে তা আটকাতে নীতিনির্ধারকদের নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসা দরকার সরকারের, আলোচনা করা উচিত্‍ অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গেও৷ অ্যাসোচ্যাম বলেছে, 'ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিন, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে শীঘ্র আলোচনা করার ব্যাপারে কথা বলা উচিত্‍ অর্থমন্ত্রী চিদম্বরমের৷' টাকার সর্বনিম্ন দরে রেকর্ড হওয়ার পাশাপাশি সোনারও দামেও নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে৷

অনলাইনেই আপ-টু-ডেট পিএফ অ্যাকাউন্ট দেখা যাবে

অনলাইনেই আপ-টু-ডেট পিএফ অ্যাকাউন্ট দেখা যাবে
নয়াদিল্লি: এবার অনলাইনেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের আপ-টু-ডেট ব্যালান্স দেখতে পাবেন পাঁচ কোটি কর্মীসদস্য৷ চাকরি ছাড়ার পর টাকা ক্লেম করা বা অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের সুবিধা চালুর পর, 'রিয়েল টাইম' আপেডেটেড অ্যাকাউন্ট দেখার সুবিধাও শুরু করতে চলেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)৷ এর ফলে ইপিএফও-র পাঁচ কোটি কর্মীসদস্য উপকৃত হবেন৷ সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই এই সুবিধা চালু করবে ইপিএফও৷ বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টের বার্ষিক বিবৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে একটি স্লিপ দেয় ইপিএফও৷ সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই স্লিপ দেওয়ার চল৷ নতুন ব্যবস্থায় কর্মী সদস্যরা অনলাইনে তাঁদের আপডেটেড প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট দেখতে পাবেন৷ প্রয়োজনে প্রিন্ট আউটও নিতে পারবেন৷ সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, 'কর্মী সদস্যরা যাতে তাঁদের অ্যাকাউন্ট আপডেট করা হয়েছে কি না দেখতে পারেন তাই আমরা সেই সুবিধা চালু করছি৷' তিনি বলেন, 'এ নিয়ে শ্রমমন্ত্রী সিস রাম ওলার দন্তরে চিঠিও পাঠানো হয়েছে৷' চালু আছে এমন অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রেই এই পরিষেবা শুরু করবে ইপিএফও৷ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না৷

সিরিয়া-সঙ্কটে পতনের নয়া রেকর্ড গড়ল টাকা

সিরিয়া-সঙ্কটে পতনের নয়া রেকর্ড গড়ল টাকা
সিরিয়া-সঙ্কটে পতনের নয়া রেকর্ড গড়ল টাকা
এই সময়: পুজোর মরসুমে ঘরদোরের কলি ফেরানো কিংবা বাড়ির পুরোনো টিভি বা ওয়াশিং মেশিনটা পাল্টে নতুন আর একটা ঘরে আনার চিন্তা আপাতত শিকেয় তুলে রাখাই ভালো৷ কারণ জন্মাষ্টমীর সকালে ডলার পিছু টাকার দাম ছুঁয়ে ফেলল ৬৮.৮০৷ সর্বকালে টাকার দামে এটাই সর্বাধিক পতন৷ প্রত্যাশিত ভাবেই টাকার এই অবমূল্যায়নের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় আরও বহু জিনিসের দাম৷ বুধবারই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১৬ ডলারে পৌঁছে যায়৷ ভারতীয় বাজারের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ডামাডোল৷ সিরিয়ায় পশ্চিমি দেশগুলির আক্রমণ করার সম্ভাবনা বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷

বুধবার সকালে বাজার খোলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়৷ টাকার বিনিময় দর সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে নীচে নামে৷ মার্কিন ডলারের দাম হয় ৬৮.৮০ টাকা, ইউরো পৌঁছয় ৯০.৬১ টাকায়৷ সোনার দাম এক ধাক্কায় প্রতি ১০ গ্রামে ২৫০০ টাকা বেড়ে পৌঁছে যায় ৩৪,৫০০ টাকায়৷ এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক গৃহঋণ ও গাড়ির ঋণে সুদ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করায় মধ্যবিত্তের উপর চাপ আরও বাড়বে৷ কয়েক দিনের মধ্যেই লিটারপ্রতি তিন থেকে চার টাকা বাড়তে পারে ডিজেলের দাম৷ এর মধ্যেই মালগাড়ির পণ্য পরিবহণের ভাড়া বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে রেল৷ ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আগুন দরে ঘৃতাহুতি হতে চলেছে৷ উত্‍সবের মরসুমে বিশেষ সেল দেওয়া আদৌ যাবে কি না, তা ভাবতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থা৷ ইতিমধ্যেই টিভি, ওয়াশিং মেশিন বা কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক জিনিসের দাম বাড়তে চলেছে বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রস্ত্ততকারী সংস্থাগুলি৷ বুধবারই জেনারেল মোটর্স তাদের গাড়ির দাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে৷ অডি, বিএমডব্লিউ-এর মতো আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা ইতিমধ্যেই গাড়ির দাম বাড়িয়েছে৷
অর্থনীতির এই দুর্দিনে সুর চড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলও৷ এ দিনের ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মা৷ কিন্ত্ত তাতে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করা যায়নি৷ বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিং বলেছেন, 'সাধারণ মানুষ থেকে বিনিয়োগকারী-- এই সরকারের উপর আস্থা হারিয়েছেন সকলেই৷' তাঁর বক্তব্য, টাকাকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে ইউপিএ সরকারের ইস্তফা দেওয়া উচিত৷ তাঁর দাবি, 'এখনই লোকসভা নির্বাচন হয়ে নতুন সরকার এলেই একমাত্র বাজারের আস্থা ফিরতে পারে৷' আরও খোলাখুলি সমালোচনা করেছেন দলীয় মুখপাত্র প্রকাশ জাভড়েকর৷ তাঁর কথায়, 'সব রকম সামগ্রীর দাম বাড়বে এ বার৷ কাজ হারাবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ৷ এই বিপর্যয় মানুষের কীর্তি, ইউপিএ-র কীর্তি৷'

সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য সীতারাম ইয়েচুরির কথায়, 'প্রধানমন্ত্রীর দাবি ১৯৯১-এর সঙ্গে বর্তমান অবস্থার মিল নেই, কিন্ত্ত আমার তা মনে হয় না৷ বরং এবারকার পরিস্থিতি আরও খারাপ৷ অর্থ আছে যাঁদের হাতে, তাঁরা তো দেশীয় বাজারে লগ্নিই করছেন না৷ সব টাকা সোনা, সম্পত্তি বা বিদেশি মুদ্রায় ঢেলে দিচ্ছেন৷' বর্তমান পরিস্থিতিকে 'অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা' বলেছেন সিপিআই সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত৷

টাকার দাম ক্রমশ নীচের দিকে নামায় বাড়তে চলেছে সারের দাম৷ ফলে আগামী দিনে কৃষিতেও তার প্রভাব পড়বে৷ বিদেশে পড়তে যাওয়ার মুখে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যত্‍৷ ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলিতে ছাত্র ভিসা পাওয়ার অন্যতম শর্ত হল, আবেদনকারীকে দেখাতে হবে যে এক বছর বিদেশে থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য তাঁর আছে৷ এর জন্য ভিসা আবেদনের ঠিক আগের ২৮ দিন আবেদনকারীকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এক বছরের দৈনন্দিন খাওয়া থাকার খরচ বাবদ ৮,০০০ পাউন্ডের সমপরিমাণ টাকা রাখতে হবে৷ এ মাসের গোড়ায় যাঁরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা রেখেছিলেন, তাঁরা তখন পাউন্ডের দর হিসাব করেছিলেন ৯২ টাকা৷ বুধবার পাউন্ড-টাকার সেই বিনিময় দর দাঁড়িয়েছে ১০৬.৩২ টাকা৷ অর্থাত্‍, ভিসা পেতে হলে প্রত্যেককে এখন তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাউন্ড প্রতি অতিরিক্ত ১৪.৩২ টাকা (মোট ১,১৪,৫৬০ টাকা) জমা করতে হবে৷

গত সপ্তাহ থেকেই বিদেশি মুদ্রার বাজারে ডলার, পাউন্ড, ইউরোর আকাল হঠাত্‍ করেই অনেকটা বেড়ে গিয়েছে৷ সেপ্টেম্বর থেকেই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাদের মাসিক ৮,৫০০ কোটি ডলার মূল্যের ঋণপত্র কেনা কমাতে পারে এই আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে তাদের লগ্নি বিক্রি করে ডলার ঘরে তুলতে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন৷ ৭ অগস্ট থেকে বুধবার পর্যন্ত এখানকার শেয়ার ও ঋণপত্রের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১৫ কোটি ডলার মূল্যের লগ্নি বিক্রি করে দিয়েছে৷

এর মধ্যেই সোমবার থেকে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে৷ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে কয়েকদিনের মধ্যেই সেনা অভিযান চালাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ বাহিনী৷ বৃহস্পতিবারই সিরিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের উপর রাসায়নিক হামলার নিন্দা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব আনতে পারে ব্রিটেন৷ সেনা অভিযান শুরু হলে তার ফল সুদূর প্রসারী হতে পারে এই আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলার, জাপানি ইয়েন, সুইস ফ্রাঙ্ক বা সোনায় লগ্নি করে নিজেদের বিনিয়োগ নিরাপদ করতে চাইছেন৷

এ দিকে, সিরিয়ায় পশ্চিমি অভিযান শুরু হলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে তেলের জোগান ব্যাহত হবে এই আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে৷ গত বুধবার থেকে আন্তজার্তিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে৷ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কিনতে হলে চাই ডলার৷ তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলির ডলারের চাহিদাও অনেক বেড়ে গেছে গত তিন-চার দিনে৷ অথচ, টাকার বিনিময় দর এত দ্রুত পড়ায় রপ্তানিকারীরা তাদের ডলারের আয় এখনই বাজারে বিক্রি করে টাকায় পরিবর্তন করতে চাইছেন না৷ খুব শীঘ্রই ডলারের দর ৭১-৭২ টাকায় পৌঁছতে পারে বলে বাজি ধরাও চলছে৷

ধ্যানচন্দ্র, রামচন্দ্র এবং ‘স্কুপ’ভাগ্য

ধ্যানচন্দ্র, রামচন্দ্র এবং 'স্কুপ'ভাগ্য

ধ্যানচন্দ্র, রামচন্দ্র এবং 'স্কুপ'ভাগ্য
স্ট্রাইকার 

আমাদের খেলার রামায়ণের রামচন্দ্র ওরফে ধ্যানচন্দ্রের সাক্ষাত্কারের সোনালি -জয়ন্তী থেকে আর মাত্র চার বছর দূরে৷ সামান্য ঠিকে ক্রীড়া -সাংবাদিক , তাই ধ্যানচাঁদের মতো ব্যক্তিত্বকে ছোঁয়ার আগে অন্তরে সেদিন ভরপুর থরথরানি ছিল৷ প্রায় কাকডাকা ভোর৷ পার্ক স্ট্রিটের চৌমাথায় ভারত -পিতা সারা রাতে হিমমেখে -ডান্ডি অভিযানের প্রতীকে মগ্ন৷ সঙ্গী ফোটোগ্রাফার সুনীল দাশ৷ পঞ্চাশ -ষাটের দশকে ক্রীড়া-মগ্ন কলকাতার খেলার খবর যার লেন্সই বেশি ঝলসে উঠত৷ গন্তব্য পার্ক স্ট্রিটের মোড়ের কাছেই বাস্কেট কাম হকির মেয়েদের অনুশীলনের মাঠ৷ এখন পাতালে সেঁধিয়েছে৷ এই মাঠে লেসলি ক্লডিয়াসের বউ নি জুয়েল , লিয়েন্ডারের মা জেনিফার বা শিরিন কিয়াসরা প্র্যাকটিস করেছেন৷ যত আবেগ উাস এখানে এসেই যেন ঠোক্কর খেল৷ চারিদিক ভোঁ ভাঁ, কা কস্য পরিবেদন৷ জেদের পারদ কিন্ত্ত চড় চড় করে চড়ছে৷ সবই অলীক স্কুপের টান৷ 

ঠাহর হল একবার তবে কাছেই কিড স্ট্রিটের এম এল এ হস্টেলে ঢুঁ মারি৷ দোতলার ঘরের বারান্দায় আমাদের হকি -রত্ন সাক্ষাত্ দাঁড়িয়ে৷ গায়ে গেঞ্জি৷ তখন মুখ ধোওয়া হয়নি৷ পেটানো চেহারায় সামরিক অনুশাসন গমগম করছে৷ মাথার উপর ভাঙা বাল্ব৷ রাত ভোর দানাপানি পেটে পড়েনি৷ সন্তর্পণে সৌজন্যের হাত বাড়ালাম৷ মেজাজ যথারীতি খাট্টা৷ হাতে হাত দিতেই প্রায় তড়িতাহত৷ এই পানি -পীড়নে এক সময় হিটলার , ব্র্যাডম্যান ও জওহরলালরাও ধন্য হয়েছেন৷ ব্যস্ত ক্রীড়া -পরিষদের ডাকে উনি বঙ্গজনের পরম অতিথি৷ অথচ হেনস্থার শিকার !এমন বিপন্ন অবস্থায় কথা বলা দায়৷ আশ্চর্য এরই মধ্যে কথা বললেন , যদিও যথেষ্ট বিরক্তির সঙ্গে৷ 

ব্যক্তিগত ভাবে নিজেও বার বার ভেবেছি৷ সময়ের কাঁটাটা যদি তিরিশ বছর পিছিয়ে দিই৷ অদূরে ময়দানে বেটনের -বাসন্তী পুজো হচ্ছে৷ ভারত সেঁচে হিরেমতি খচিত ডজন তিনেক দলের তুল্যমূল্য লড়াই৷ দর্শকের দু'চোখ ভরে দেখার বাসনা , ধ্যান -রূপ দুই ভাইয়ের পুশ -ড্রাই-ফ্লিকের স্টিকের ঝলক৷ এ যেন হকির কুম্ভ মেলা৷ বেটন হচ্ছে , স্যুভেনিরে ছড়া কাটা হচ্ছে নামজাদা টিমের নামের আদ্যাক্ষর ঘিরে৷ 

দুই ভাই উঠতেন মধ্য কলকাতার ব্রডওয়ে হোটেলে৷ সারা কলকাতা ভেঙে পড়ত ওই হোটেলের আশপাশে , নিছক গৌরবান্বিতের গৌরবছটায় পুলকিত হতে৷ 

সময়ের তফাতে এমন বীরের বঞ্চনা , অথচ হস্টেলের ওই কয়েকশো গজ দূরে কান পাতলে ঈথারে সেই ধ্যান -রূপের খেলার সমঝদারদের হাততালি বোধ হয় শোনাও যেত৷ 

এই সব সাতপাঁচ ভাবছিলাম ধ্যানচন্দ্রকে অসহায় দেখতে দেখতে৷ লা পিয়েরের সিটি অব জয় তখন আমার গলার কাঁটায় পরিণত - সিটি অব পরাজয়৷ 

টুকটাক কথা হল, নোট নিলাম৷ দেশ টুকরো টুকরো হয়ে হকির ভারতও দু-আধখানা হওয়ায় জাদুকরও যথেষ্ট ক্ষুব্ধ৷ তবে সিন্থেটিক মাঠে খেলতে উপমহাদেশের প্লেয়ারদের বাধ্য করা হচ্ছে , এটা তাঁর কাছে ঢাল -তরোয়াল কেড়েকুড়ে যুদ্ধে নামানোরই সামিল৷ ওঁর টনটনে বিশ্বাস দেখেছিলাম , ভারত -পাক এক থাকলে এ ভাবে জব্দ করা যেত না৷ এমন ভারত -বিদ্বেষী হকি -পরিবেশে দেশেও যেন হকি -চর্চায় ভাঁটা চলেছে , এতে তাঁর দুঃখের আর শেষ নেই৷ তিনি যেন ভারতীয় হকির শেষ দেখতে পাচ্ছিলেন৷ 

ভাবুন, পরাধীন ভারতে ১৯৩৬ -এর বার্লিন অলিম্পিকে ব্রিটিশ -পতাকা হাতে মার্চ পাস্ট করতে হয়৷ বুকের জ্বালা মেটে খেলার মাঠে নামার আগে৷ জাতীয় কংগ্রেসের তেরঙায় প্রণাম জানিয়ে তাঁরা মাঠে ঢোকেন৷ যেন আনন্দমঠের বীর সন্ন্যাসী৷ লক্ষ্য --হকি স্টিক হাতে আমরা দেশের জন্য বলি প্রদত্ত৷ হায় ! জাদুকরের সাক্ষাত্কারের সন্তাহখানেক পরে কলকাতার তাবত্ সাংবাদিকদের স্কুপ -মিসের আপশোসে কিন্ত্ত খবরদার ক্ষোভ মেটায় ধ্যানচাঁদকে দিয়ে জোর করে ঘটনার প্রতিবাদ লিখিয়ে৷ উনি লেখেন , ওঁকে সাংবাদিক জানলে আমার কথা বলতাম না৷ অলমতি বিস্তারেন ! 

अब छात्र आंदोलन का मौका नहीं कामरेडों को।

अब छात्र आंदोलन का मौका नहीं कामरेडों को।


एक्सकैलिबर स्टीवेंस विश्वास​


दिल्ली में मुख्यमंत्री ममता बनर्जी और अमित मित्र के साथ बदसलूकी ने छात्र नेता सुदीप्त गुप्त की पुलिस हिरासत में मृत्यु को लेकर एसएफआई और माकपा के आंदोलन का पटाक्षेप कर दिया।पंचायत चुनावों के जरिये राज्य राजनीति में वापसी की कवायद भी फेल हो गयी, लिकिन इस बीच कामरेडों ने सुदीप्त को भुला दिया।अब मानवाधिकार आयोग की रपट में सुदीप्त की मौत के लिए पुलिस प्रशासन को जिम्मेदार ठहराया गया है। जाहिर है कि राज्य सरकार इस रपट पर कोई कार्रवाई नहीं करने जा रही है। लेकिन माकपाइयों को इस मुद्दे को लेकर आंदोलन करने का मौका अब नये सिरे से शायद ही मिले।



सुदीप्त की मौत राज्य के कालेजों में छात्रसंघ चुनावों पर निषेधाज्ञा के खिलाफ छात्र आंदोलन की वजह से हुई।अब मानवाधिकार कमीशन की रपट आते न आते शिक्षा मंत्री बरात्य बसु ने ऐलान कर दिया है कि छात्र संघ के चुनाव पूजा के बाद हो जायेंगे।



वापसी का रास्ता बंद


तृणमूल कांग्रेस की इस त्वरित कार्रवाई ने माकपा के लिए छात्र आंदोलन के जरिये वापसी का रास्ता भी बंद कर दिया।


राज्य सरकार छात्र संघ चुनावों के लिए नियमावली 15 - 20 दिनों में सार्वजनिक करने जा रही है। नियमावली का काम लगभग खत्म है। शिक्षा मंत्री ने विधान शबा में यह घोषणा की।इसके सात ही उन्होंने साफ करा दिया कि छात्र संघ चुनावों पर रोक लगाने की सरकार की कोई मंशा नहीं है। फरवरी में माध्यमिक ,उच्चमाध्यमिक और मदरसा परीक्षाएं होने की वजह से ही चुनाव स्थगित कर दिये गये थे।

पुलिस जिम्मेवार

इस बीच राज्य मानवाधिकार कमीशन ने सुदीप्त की मौत पर अपनी रपट जारी करते हए इस मौत के लिए पुलिस लापरवाही को वजह बतायी है।कमीशन ने राज्य सरकार से दिवंगतछात्र नेता के परिवार को दस लाख रुपये का हरजाना देने के लिए कहा है।लैंप पोस्ट से धक्का लगने के कारण सुदीप्त की मौत हो गयी, इस पुलिसिया बयान को कमीशन ने सिरे से खारिज कर दिया है।


गौरतलब है कि इस साल 2 अप्रैल को एसएफआई की ओर से आहूत 'कानून तोड़ो आंदोलन' में शामिल सुदीप्त की रहस्यमय तरीके से मौत हो गई थी। मृतक के परिजनों का आरोप है कि पुलिस लाठीचार्ज में सुदीप्त की मौत हुई है जबकि पुलिस का कहना है कि बस में जाते वक्त बिजली के खंभे से धक्का लगने के कारण उसकी मौत हुई है। मुख्यमंत्री ममता बनर्जी ने भी पुलिस की बात को सही बताया था। घटना के अगले ही दिन मानवाधिकार आयोग ने कोलकाता के पुलिस आयुक्त से मामले में रिपोर्ट मांगी थी। आयोग के रजिस्ट्रार रवीन्द्रनाथ सामंत और एडीजी दंगल ने भी जांच शुरू की थी। सोमवार को पुलिस की रिपोर्ट और अपनी रिपोर्ट पर मानवाधिकार आयोग के बेंच ने विचार-विमर्श किया। बैठक में आयोग के चेयरमैन अशोक कुमार गंगोपाध्याय, अवकाश प्राप्त न्यायाधीश नारायण चंद्र सील एवं पूर्व अधिकारी सोरिन राय उपस्थित थे।


कार्रवाई नहीं


आयोग सूत्रों से मिली जानकारी के अनुसार रिपोर्ट में उल्लेख किया गया है कि घटना वाले दिन कोलकाता पुलिस की ओर से अगर सतर्कता बरती गई होती को सुदीप्त की मौत नहीं होती। साथ ही यह भी कहा गया कि जिस बस से यह दुर्घटना घटी थी, उसके चालक का ड्राइविंग लाइसेंस नहीं था। सारी बातों को ध्यान में रखते हुए आयोग की ओर से सुदीप्त के परिजनों को 10 लाख रुपये और आंदोलन में घायल जोसेफ हुसैन को तीन लाख रुपये बतौर क्षतिपूर्ति देने की सिफारिश की गई है।



लेकिन खबरयह है कि राज्य सरकार इस रपट के तहत कोई कार्वाई नहीं करने जा रही है और न ही सुदीप्त के परिवार को कोई मुआवजा दिया जायेगा।





तर्कशीलता की मशाल

Wednesday, 28 August 2013 10:58

सुभाष गाताडे
जनसत्ता 28 अगस्त, 2013 : गए साल मार्च की बात है, जब मुंबई के एक उपनगर के गिरजाघर में सलीब पर टंगी ईसा मसीह की प्रतिमा के पैर से टपक रहे जल ने तहलका मचा दिया था। हजारों की तादाद में वहां भीड़ जुटने लगी और ईसा मसीह के 'टपकते आंसुओं' से भावविह्वल होती नजर आई। मेले जैसा दृश्य बन गया। टीवी वालों ने इस 'चमत्कार' का सजीव प्रसारण शुरू कर दिया। इंडियन रेशनलिस्ट एसोसिएशन के अध्यक्ष सनल एडमारूकु ने घटनास्थल पर जाकर मुआयना किया और अपनी पैनी निगाहों से यह पता करने में उन्हें वक्त नहीं लगा कि इस 'चमत्कार' की जड़ बगल के वॉशिंग रूम की निकासी में है, जहों से कैपिलरी एक्शन के जरिए पानी जीसस के पैरों तक पहुंच रहा है। (किसी ठोस पदार्थ की सतह पर किसी द्रव्यपदार्थ की हरकत, जो ठोस पदार्थ के परमाणुओं और द्रव्यपदार्थ के परमाणुओं के आकर्षण से निर्मित होती है, उसे कैपिलरी एक्शन कहते हैं। पेपर टॉवेल इसी सिद्धांत पर चलता है। )
बाद में एक लाइव टीवी कार्यक्रम में सनल एडमारूकु ने इस घटना को स्पष्ट करते हुए चर्च अधिकारियों पर 'चमत्कार की मार्केंिटंग' करने और भोले लोगों को बेवकूफ बनाने का आरोप लगाया। एक तीखी बहस चल पड़ी, जिसमें चर्च के पदाधिकारियों ने अपनी आस्था की दुहाई देते हुए सनल से माफी मांगने के लिए कहा। सनल के इनकार के बाद उन्होंने पुलिस में शिकायत दर्ज कराई। पुलिस ने धार्मिक भावनाओं को आहत करने के नाम पर सनल के खिलाफ धारा-295 के तहत मुकदमा दर्ज किया और दिल्ली में उनके घर छापा डालने पहुंची। 
वर्ष 2011 में टीवी स्टूडियो के अंदर केरल युक्ति संघम के अध्यक्ष यू कलानाथन पर हमला हुआ था। वजह यह थी कि केरल के विख्यात पद््मनाभ मंदिर के तहखानों में रखी हुई अकूत संपदा के सार्थक उपयोग पर वे अपनी राय प्रकट कर रहे थे। कुछ साल पहले उत्तर भारत के एक चर्चित संत- जिनका हरियाणा और पंजाब की राजनीति में भी काफी दखल रहता है- के आश्रम में हुई यौन अत्याचारों की घटनाओं का खुलासा हुआ था। इस संत के खिलाफ मुहिम चलाने वाले पत्रकार छत्रपति पर कातिलाना हमला हुआ, जिसमें बाद में उनकी मौत हो गई। 
चाहे सनल पर दायर मुकदमा हो या कलानाथन पर हुआ हमला या छत्रपति जैसे पत्रकारों को जान देकर जिसकी कीमत चुकानी पड़ी हो, इस बात को आसानी से देखा जा सकता है कि सहिष्णु कहलाने वाले भारत की सरजमीं पर तर्कशीलता और बुद्धिवाद की पताका बुलंद करने वाले लोगों को किन खतरों से गुजरना पड़ता है। बीस अगस्त को पुणे में अंधश्रद्धा विरोधी आंदोलन के अगुआ डॉ नरेंद्र दाभोलकर की हत्या को इसी कड़ी में देखा जा सकता है।
अलसुबह टहलने के लिए निकलते वक्त़, जबकि ठीक साढ़े ग्यारह बजे की प्रेस-वार्ता तय थी- जहां उन्हें पर्यावरण-अनुकूल गणेश मूर्तियों के मसले पर बात रखनी थी- डॉ दाभोलकर ने यह शायद ही सोचा होगा कि ओंकारेश्वर पुल पर मौत उनका इंतजार कर रही होगी। पिछले पच्चीस वर्षों से अधिक वक्त से दाभोलकर अंधश्रद्धा के खिलाफ मुहिम में जुटे थे। उन्होंने डॉक्टरी छोड़ कर जन-जागरण के काम में अपने आप को झोंक दिया था। इस दौरान उन्हें तरह-तरह की बाधाओं, प्रताड़नाओं और हमलों का शिकार होना पड़ा। उनकी मृत्यु ने न केवल महाराष्ट्र के हर विचारशील, न्यायप्रिय व्यक्ति को अंदर से झकझोर दिया है बल्कि उसकी प्रतिक्रिया देश के अन्य हिस्सों में भी देखी जा सकती है। इस जघन्य घटना की प्रतिक्रिया राज्यसभा में भी हुई, जहां संदेह के घेरे में आई सनातन संस्था पर पाबंदी की मांग की गई।
दाभोलकर की हत्या के तत्काल बाद महाराष्ट्र के विभिन्न हिस्सों में स्वत:स्फूर्त प्रदर्शन हुए। हत्या के एक दिन बाद तमाम सामाजिक-राजनीतिक संगठनों के आह्वान पर पुणे बंद रहा। जनाक्रोश से बचने और एक तरह से अपनी झेंप मिटाने के लिए कांग्रेस-राकांपा की सरकार ने अठारह साल से लंबित उस विधेयक पर अध्यादेश जारी करने का निर्णय लिया, जिसे पारित कराने के लिए दाभोलकर लंबे समय से सक्रिय थे। इस विधेयक का मकसद जादूटोना करने वालों और ऐसी प्रवृत्तियों पर रोक लगाना रहा है। 
'महाराष्ट्र प्रीवेंशन ऐंड इरेडिकेशन आॅफ ह्यूमन सैक्रिफाइस ऐंड अदर इनह्यूमन इविल प्रैक्टिसेस ऐंड ब्लैक मैजिक' शीर्षक इस विधेयक का हिंदू अतिवादी संगठनों ने लगातार विरोध किया है। पिछले दो साल से वारकरी समुदाय के लोगों ने भी विरोध के सुर में सुर मिलाया है। फुले-रानाडे-गोपाल हरि आगरकर-आंबेडकर की विरासत को लेकर अपनी मुहिम में मुब्तिला दाभोलकर को भी इस बात का अहसास रहा होगा कि साधारण जनों की आस्था का दोहन करने वाले जिन तत्त्वों की मुखालफत अपने संगठन 'महाराष्ट्र अंधश्रद्धा निर्मूलन समिति' के बैनर तले कर रहे हैं (जिसकी दो सौ से अधिक शाखाएं महाराष्ट्र, गोवा, कर्नाटक में हैं), वे कभी भी हमला कर सकते हैं। अपने स्वार्थों पर चोट पड़ती देख कर वे साजिश रच सकते हैं, विचारों के संग्राम में हारे हुए ये संकीर्णमना कभी भी हथियारों के प्रयोग तक जा सकते हैं। उन्हें जो आखिरी धमकी मिली, वह यह थी कि 'याद रखना हमने गांधीजी के साथ क्या किया था, और वही तुम्हारे साथ करेंगे'। इसमें भी इन अतिवादियों ने इस बात का स्पष्ट संकेत दिया था कि वे किस हद तक जा सकते हैं और किन विचारों से प्रेरणा ग्रहण करते हैं। उनके बेटे हामिद ने मीडिया को बताया कि किस तरह उन्होंने उन्हें मिलने वाली धमकियों की परवाह नहीं की। 
हामिद के मुताबिक 'वे कहते थे कि उनका संघर्ष अज्ञान की समाप्ति के लिए है और उससे लड़ने के लिए उन्हें हथियारों की जरूरत नहीं है।' उनके भाई का कहना था जब हम लोग उनसे पुलिस सुरक्षा लेने का आग्रह करते थे, तो वे कहते थे कि 'अगर मैंने सुरक्षा ली तो वे लोग मेरे साथियों पर हमला करेंगे। और यह मैं कभी बर्दाश्त नहीं कर सकता। जो होना है मेरे साथ हो।'

पुणे के पास स्थित सतारा में जन्मे नरेंद्र दाभोलकर ने मिरज मेडिकल कॉलेज से डॉक्टरी की पढ़ाई की। सत्तर के दशक के प्रारंभ में 'समाजवादी युवजन सभा' के सक्रिय सदस्य के तौर पर अपने सामाजिक-राजनीतिक जीवन की शुरुआत करने वाले डॉ दाभोलकर विभिन्न सामाजिक आंदोलनों से जुड़े थे। श्रीराम लागू, नीलू फुले, रोहिणी हट्टंगडी जैसे सामाजिक सरोकार रखने वाले कलाकारों-नाटककारों को लेकर उन्होंने 'सामाजिक कृतज्ञता निधि' के निर्माण के लिए महाराष्ट्र के विभिन्न हिस्सों में एक मराठी नाटक का आयोजन किया था, जिसका मकसद था महाराष्ट्र में पूर्णकालिक सक्रिय सामाजिक कार्यकर्ताओं को नियमित आर्थिक सहयोग प्रदान करना। फिलवक्त यह कोष एक करोड़ रुपए तक पहुंचा है, जिसके माध्यम से पैंतालीस कार्यकर्ताओं को मदद दी जाती है।
दस साल डॉक्टरी करने के बाद दाभोलकर उन्हीं दिनों बाबा आढव की अगुआई में जाति उन्मूलन के लिए चल रही 'एक गांव एक पाणवठा' (अर्थात एक गांव एक जलाशय) नामक मुहिम से जुड़े। इस दौरान हुए अनुभवों के कारण उन्होंने तय किया कि अंधश्रद्धा निर्मूलन पर अपने आप को केंद्रित रखेंगे। इसी मकसद से लगभग ढाई दशक पहले उन्होंने महाराष्ट्र अंधश्रद्धा निर्मूलन समिति का गठन किया था। समाज में वैज्ञानिक चेतना फैलाने के काम को किस तरह एक आंदोलन की शक्ल दी जा सकती है, इसकी एक एक मिसाल उन्होंने कायम की है। 
समिति के कामों के प्रभाव का अंदाजा इस बात से भी लगाया जा सकता है कि अपनी किताब 'डिसएनचेन्टिंग इंडिया: आर्गनाइज्ड रेशनेलिज्म इन इंडिया' (आक्सफोर्ड यूनिवर्सिटी प्रेस, 2012) में लेखक जोहान्स क्वैक भारत के तर्कवादी आंदोलनों पर जब निगाह डालते हैं तो इस बात का विशेष उल्लेख करते हैं कि महाराष्ट्र अंधश्रद्धा निर्मूलन समिति भारत का सबसे सक्रिय तर्कशील संगठन है। अतीत के अनुभवों से लेकर आज की गतिविधियों पर निगाह डालने वाली इस किताब में कई पेज समिति के कामों पर ही केंद्रित हैं। दाभोलकर के साथ साक्षात्कार से लेकर समिति के साधारण कार्यकर्ताओं से बातचीत का विवरण भी इसमें शामिल है।
प्रस्तुत किताब भारत के तर्कशील आंदोलन के अलक्षित इतिहास और उसकी तमाम शख्सियतों पर रोशनी डालती है। इसमें ज्योतिबा फुले, गोपाल आगरकर, शाहू महाराज, रामास्वामी नायकर, जवाहरलाल नेहरू, डॉ आंबेडकर, एमएन राय, गोपाराजू राव 'गोरा', अन्नादुराई और कई अन्य विभूतियां शामिल हैं। इस अध्ययन में उन आंदोलनों को विशेष जगह मिली है जो महात्मा फुले द्वारा स्थापित सत्यशोधक समाज से प्रेरणा ग्रहण करते हैं। 
इसकी वजह यही है कि संगठित तर्कवाद का एक महत्त्वपूर्ण आयाम 'पवित्र' घोषित किए गए सामाजिक अन्याय को चुनौती देना रहा है। भारत के तर्कवादियों को यह अहसास था कि उन्हें पश्चिमी जगत का अंधानुयायी करार दिया जा सकता है; लिहाजा इससे बचने के लिए उन्होंने अपने आप को प्राचीन भारतीय भौतिकवाद से भी जोड़ा। 
समिति के कार्यकर्ता अक्सर राज्य के विभिन्न हिस्सों में जाते और तथाकथित चमत्कार दिखाने वाले बाबाओं को गिरफ्तार करवाते थे। जिन महिलाओं को डायन घोषित किया जाता था उन्हें इस लांछन और उत्पीड़न से मुक्त कराने का काम भी समिति के लोग करते थे। लोगों को वैचारिक तौर पर तैयार करने के लिए पत्रिका का प्रकाशन, व्याख्यानों, कार्यशालाओं का आयोजन भी किया जाता था। समिति की अगुआई में निर्मला देवी और नरेंद्र महाराज जैसों के खिलाफ भी आंदोलन चलाया गया, जिसके चलते उनके समर्थकों के साथ तीखा विवाद हुआ था।
वर्ष 2000 में अपने संगठन की पहल पर दाभोलकर ने राज्य की सैकड़ों महिलाओं की रैली अहमदनगर जिले के शनि शिंगणापुर मंदिर तक निकाली, जिसमें महिलाओं के लिए प्रवेश वर्जित था। रूढ़िवादी तत्त्वों और शिवसेना-भाजपा के कार्यकर्ताओं ने परंपरा और आस्था की दुहाई देते हुए महिलाओं के प्रवेश को रोकना चाहा, उनकी गिरफ्तारियां भी हुर्इं और फिर मामला मुंबई उच्च न्यायालय पहुंचा और उसकी सुनवाई पूरी होने के करीब है। वर्ष 2008 में दाभोलकर और अभिनेता-समाजकर्मी डॉ श्रीराम लागू ने ज्योतिषियों के लिए एक प्रश्नमाला तैयार की और कहा कि अगर उन्होंने तर्कशीलता की परीक्षा पास की तो उन्हें पुरस्कार मिल सकता है। अभी तक इस पर दावा ठोंकने के लिए उनमें से कोई भी आगे नहीं आया। 
प्रतिक्रियावादी तत्त्व भले ही दाभोलकर को मारने में सफल हुए हों, लेकिन जिस तरह से उनकी हत्या हुई है उसने तमाम नए लोगों को भी दिमागी गुलामी के खिलाफ जारी इस व्यापक मुहिम से जोड़ा है। तर्कशीलता और बुद्धिवाद के लिए हुई दाभोलकर की शहादत हमारे सामने कई नए सवाल खड़े करती है। हमारे इर्दगिर्द अतार्किकता का उभार क्यों दिख रहा है? आखिर किस वजह से तर्कशीलता और असहमति पर आक्रमण विभिन्न तरह के धार्मिक कट््टरपंथियों के एजेंडे में सिमट जाता है? आखिर क्यों मीडिया अतार्किकता को बढ़ावा देने में मुब्तिला है? क्यों एक 'पॉप आध्यात्मिकता' एक विशाल उद्योग में तब्दील हो गई है? आज सेक्युलर होने के क्या मायने हैं? अतार्किकता की इस बढ़ती लहर का मुकाबला करने के लिए हमारे पास किस तरह के बौद्धिक, सांस्कृतिक, वैज्ञानिक, राजनीतिक संसाधन मौजूद हैं?
महाराष्ट्र के विभिन्न स्थानों पर हुई रैलियों में तमाम बैनरों-पोस्टरों में एक छोटे-से पोस्टर ने लोगों का ध्यान अपनी ओर आकर्षित किया, जिस पर लिखा था 'आम्ही सगले दाभोलकर' (हम सब दाभोलकर)। चार्वाकों के इस अनूठे वारिस को इससे बड़ी श्रद्धांजलि और क्या हो सकती थी!

 

 

फेसबुक पेज को लाइक करने के क्लिक करें-          https://www.facebook.com/Jansatta
ट्विटर पेज पर फॉलो करने के लिए क्लिक करें-      https://twitter.com/Jansatta